Skip to main content

মানিকগঞ্জ-৩ আসনে ১০ দলীয় জোটে ‘হযবরল’ পরিস্থিতি: ক্ষুব্ধ তৃণমূল, প্রার্থীকেই চিনেনা অনেকে



 

    • রাজনৈতিক মহলে তীব্র অসন্তোষ, প্রার্থী পরিবর্তনের দাবী


সত্য সংবাদ ডেস্ক: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মানিকগঞ্জ-৩ (সাটুরিয়া-মানিকগঞ্জ সদর) আসনে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী ঘোষণা নিয়ে এক নজিরবিহীন ‘হযবরল’ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জোটের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী শাহ মোহাম্মদ সাঈদ নূরকে মনোনয়ন দেওয়ার পর থেকেই স্থানীয় জনমনে তীব্র অসন্তোষ ও নেতাকর্মীদের মধ্যে বিদ্রোহের সুর লক্ষ করা যাচ্ছে। 


পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, খোদ জোটের সমর্থকরাই প্রার্থীর নাম শুনে আকাশ থেকে পড়ছেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ চায়ের টেবিলে এখন প্রধান আলোচনার বিষয়— ‘প্রার্থীকেই চিনে না ভোটাররা!’


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মানিকগঞ্জ-৩ আসনে জোটের প্রার্থী হিসেবে শাহ মোহাম্মদ সাঈদ নূরের নাম ঘোষণার পরপরই নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন স্তরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়, যা দ্রুতই গণবিক্ষোভ ও অসন্তোষে রূপ নিয়েছে। 


এলাকাবাসীর মতে, সাঈদ নূর একজন গুণী ও সম্মানী আলেম। তবে রাজনৈতিক মহলে তিনি একেবারেই অপরিচিত মুখ। 


সাধারণ ভোটাররা জানান, তিনি কোনো দিন মাঠপর্যায়ে সক্রিয় রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন না এবং মানিকগঞ্জের মানুষের সুখে-দুঃখে সরাসরি রাজনৈতিকভাবে তাঁকে কখনোই দেখা যায়নি। রাজনৈতিক কোনো কর্মসূচিতে তাঁর সরব উপস্থিতি না থাকায় সাধারণ ভোটারদের আস্থা অর্জন তো দূরের কথা, জনমত জরিপে দেখা গেছে— অধিকাংশ ভোটারই তাঁকে চিনতে পারছেন না।


তৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবি, একটি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসনে এমন ‘অচেনা’ ও ‘মৌসুমি’ নেতাকে মনোনয়ন দেওয়া জোটের জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হতে পারে। 


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুম তৃণমূলের একজন দায়িত্বশীল নেতা আক্ষেপ করে বলেন, “নির্বাচন মানেই জনগণের ম্যান্ডেট। অথচ যাকে জনগণই চিনে না, তিনি কীভাবে ভোট চাইবেন? এটি মূলত আসনটি প্রতিপক্ষকে উপহার দেওয়ারই নামান্তর।” 


এদিকে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে স্থানীয় জনতা ও জোটের মাঠপর্যায়ের কর্মীরা বর্তমান প্রার্থী পরিবর্তনের জোর দাবি তুলেছেন। তাঁদের স্পষ্ট দাবি— আসন্ন নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর নেতা মাওলানা দেলোয়ার হোসাইনকে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করতে হবে।


রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও তৃণমূলের ভাষ্য অনুযায়ী, মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন কেবল মানিকগঞ্জ-৩ আসনেই নয়, বরং পুরো জেলাতেই এক সুপরিচিত ও সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব। তাঁর রয়েছে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ঐতিহ্য এবং সাটুরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচনের সেই আলোচিত ভোটব্যাংক। মাওলানা দেলোয়ার হোসাইনকে প্রার্থী করা হলে জোটের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসবে এবং নির্বাচনী মাঠে একটি শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলা সম্ভব হবে। 


মাঠপর্যায়ের কর্মীরা মনে করছেন, মাওলানা দেলোয়ার হোসেনের গ্রহণযোগ্যতা ও জামায়াতের সুশৃঙ্খল সাংগঠনিক শক্তি জোটের বিজয় নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখবে।


এদিকে, সাঈদ নূরকে নিয়ে জনমনে সৃষ্ট এই ‘চাপা ক্ষোভ’ যেকোনো সময় প্রকাশ্য বিদ্রোহে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নির্বাচনী এলাকার ভোটারদের মাঝে পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, সাঈদ নূরের কোনো পরিচিতি বা গ্রহণযোগ্যতা ভোটারদের কাছে প্রায় শূন্যের কোঠায়। 


এলাকাবাসীর মতে, “আমরা এমন কাউকে সংসদে দেখতে চাই না যিনি নির্বাচনী বসন্তের কোকিল। আমরা মাটির মানুষকে চাই, যিনি আমাদের সমস্যা বুঝবেন।”


১০ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া না গেলেও, স্থানীয় পর্যায়ে এই ক্ষোভ দ্রুত প্রশমিত না হলে নির্বাচনী ফলাফলে এর চরম নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। জোটের নীতি-নির্ধারকরা যদি তৃণমূলের এই যৌক্তিক দাবি ও মাওলানা দেলোয়ার হোসাইনের জনপ্রিয়তাকে আমলে না নেন, তবে আসন্ন নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-৩ আসনে জোটের ভরাডুবি প্রায় নিশ্চিত বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল।


একাধিক ভোটার মনে করেন, বর্তমান প্রার্থী এলাকায় তেমন পরিচিত নন এবং দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত না থাকায় সাধারণ ভোটারদের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছেন। ফলে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটের জন্য এটি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।


স্থানীয় ভোটার ও ১০ দলের নেতাকর্মীরা বলছেন, “আমরা এমন একজন প্রার্থী চাই, যিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় রাজনীতি করছেন, মানুষের সুখ–দুঃখে পাশে থেকেছেন এবং সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য।”


এদিকে, এ বিষয়ে ১০ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় পর্যায়ের এই ক্ষোভ ও দাবি দ্রুত আমলে না নিলে নির্বাচনী রাজনীতিতে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


মানিকগঞ্জ-৩ আসনের ধর্মীয় ভোটব্যাংক পর্যালোচনা করে জানা গেছে, সাটুরিয়া ও মানিকগঞ্জ সদর—এই দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত মানিকগঞ্জ-৩ আসনে মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন কেবল একজন রাজনৈতিক নেতা নন, বরং ধর্মীয় ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব হিসেবেও বেশ গ্রহণযোগ্য। দীর্ঘদিন ধরে তিনি মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থেকেছেন এবং বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি কোনো ঝকঝকে মেকি আশ্বাসের পরিবর্তে সরাসরি গ্রামের সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। তাঁর এই ‘ডোর-টু-ডোর’ প্রচারণা জামায়াতের সুশৃঙ্খল নেতাকর্মীদের পাশাপাশি দলমত নির্বিশেষে সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও ব্যাপক কৌতূহল ও আগ্রহ সৃষ্টি করছে।


মামুন চৌধুরী নামে ১০ দলীয় জোটের এক কর্মী বলেন, ‘‘মানিকগঞ্জ-৩ আসনে আমরা কোনো জোট বা দল বুঝি না, আমরা বুঝি যোগ্য নেতৃত্ব। বর্তমান জোটের প্রার্থীর চেয়ে আমাদের দেলওয়ার ভাই হাজার গুণ যোগ্য এবং জনবান্ধব। এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে দেলোয়ার ভাইয়ের কোনো বিকল্প নেই। মানিকগঞ্জের মাটি ও মানুষের নেতা দেলওয়ার ভাইকে আমরা জনপ্রতিনিধি হিসেবে দেখতে চাই!’’


রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মানিকগঞ্জ-৩ আসনে এবারের নির্বাচনী লড়াই বেশ হাড্ডাহাড্ডি হতে যাচ্ছে। মানিকগঞ্জ-৩ আসনে এবারের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ত্রিমুখী কিংবা চতুর্মুখী। 


জরিপে জানা গেছে, মাওলানা দেলোয়ার হোসাইনের পক্ষে তার পূর্বের উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচন পপুলারিটি ফ্যাক্টর এবং জামায়াতের নিজস্ব সাংগঠনিক শক্তি তাঁকে অন্যদের তুলনায় একটি সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে গেছে। অতীতের উপজেলা নির্বাচনের জনপ্রিয়তার রেশ, জামায়াতে ইসলামীর সুসংগঠিত ভোটব্যাংক এবং বর্তমানের ক্রমবর্ধমান জনসমর্থন মাওলানা দেলোয়ার হোসাইনকে এক শক্তিশালী অবস্থানে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, সাধারণ মানুষের মধ্যে তাঁকে নিয়ে আলোচনা ততই বাড়ছে। তাই, ১০ দলের ক্ষেত্রে দেলওয়ার হোসাইনকেই শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে।

Comments