Skip to main content

দুই সপ্তাহে রোটা ভাইরাসে আক্রান্ত সাড়ে তিন হাজার রোগী হাসপাতালে, বেশিরভাগই শিশু

সত্য সংবাদ ডেস্ক;
ছবি: সংগৃহীত 

শীত মৌসুমের শুরুতেই চাঁদপুরে রোটা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বেড়েছ। জেলার মতলবের আইসিডিডিআরবি হাসপাতালে প্রতিদিন প্রায় ২৫০ জন রোটা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী ভর্তি হচ্ছেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভর্তিকৃত রোগীর ৮০ শতাংশের বয়সই দুই বছরের কম।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ দিনে সাড়ে তিন হাজার হাজার রোগী রোটা ভাইরাস নিয়ে ভর্তি হয়েছেন। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে এটি দ্বিগুণেরও বেশি।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এজন্য অতিরিক্ত চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ করা হয়েছে বলে জানান তারা।

হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, আগের বছর গুলোতে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে রোটা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বাড়লেও এবার ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতে আক্রান্ত হচ্ছেন মানুষ। চাঁদপুর ছাড়াও এ হাসপাতালে কুমিল্লা, ব্রাক্ষণবাড়িয়া, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ভোলা ও শরীয়তপুর জেলার ৫৮ টি উপজেলা থেকে এই হাসপাতালে যান রোগীরা। রোটা আক্রান্তেদের প্রায় ২০ শতাংশ রোগীই কয়েকঘণ্টা চিকিৎসাসেবা নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারেন। তাদেরকে স্যালাইনসহ বিভিন্ন ওষুধপত্র বিনামূল্যে দেয়া হয়।

চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, রোটা আক্রান্ত রোগীদের শুরুতে পেটে ব্যথা ও তারপর বমি এবং পরবর্তীতে জ্বর ও পাতলা পায়খানা শুরু হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাওয়া এক রোগীর অভিভাবক বলেছেন, 'বাচ্চার ৬ দিন পাতলা পায়খানা। ওইখানে (এলাকায়) ডাক্তার দেখাইছি- ভালো হয় নাই। সবাই বলছে- মতলবে নিয়ে আসার জন্য। এই জন্য এখানে নিয়ে আসছি।'

কোহিনুর নামের আরেক অভিভাবক বলেছেন, 'বাচ্চা আজকে সাতদিন যাবৎ অসুস্থ। গ্রামে ডাক্তার দেখাইছি- সুস্থ্য হয় নাই। এই কারণে সবাই আসে এখানে- এই কারণে এখানে আসছি। আসার পর থেকে আলহামদুলিল্লাহ অনেকটা সুস্থ্ আছে বাচ্চা।'

শিশুকে খাবার স্যালাইন, মায়ের বুকের দুধ এবং ছয় মাসের বেশি বয়সী শিশুদের প্রতিদিন একটি করে বেবি জিংক ট্যাবলেট এক চামচ পানিতে গুলিয়ে ১০ দিন খাওয়ানোর পাশাপাশি মায়েদেরকে স্বাস্থ্য সচেতনতার পরামর্শ দিচ্ছেন হাসপাতালের চিকিৎসকেরা।

হাসপাতালের এক চিকিৎসক বলেছেন, 'বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অভিভাবকেরা জানান, ৩-৪ দিনের ডায়রিয়ার সমস্যা নিয়ে বলে বাহিরে অল-রেডি চিকিৎসা পেয়ে এসেছে- এরকম বাচ্চা শিশুরাই আমাদের এখানে আসছে।'

রোটা ভাইরাসের লক্ষ্মণ প্রসঙ্গে হাসপাতালের চিকিৎসক শেখর চন্দ্র বলেছেন, 'বিপদচিহ্নগুলো হলো, শিশু যদি পানির মতো পায়খানা করে, একদম নেতিয়ে পড়ে- কোন কিছু খেতে অপারগতা প্রকাশ করে, শিশুর যদি পেট ফুলে যায়, ঘণ্টায় তিনবার বার তার বেশি যদি বমি করে, পায়খানায় যদি রক্ত যায়, জ্বর বা খিঁচুনি হয়, তাহলে মায়েরা যে-কোনো স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যাবেন।'

Comments