সত্য সংবাদ ডেস্ক:
ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একটি যাত্রীবাহী বিমানে তীব্র টার্বুলেন্সের কারণে দুই যাত্রীর গোড়ালি ভেঙে গেছে। লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রাকালে গ্রিনল্যান্ডের কাছ দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে।
ব্রিটিশ বিমানের দুর্ঘটনার কবলে পড়ার এই ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালের ৬ ডিসেম্বর। বিষয়টি নিয়ে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) একটি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যের এয়ার অ্যাকসিডেন্টস ইনভেস্টিগেশন ব্রাঞ্চ (এএআইবি)। এতে ফ্লাইটের ওপর টার্বুলেন্সের প্রভাবের বিস্তারিত বর্ণনা দেয়া হয়।
এএআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়, ফ্লাইট শুরুর আগে ক্রুরা যে ব্রিফিং ডকুমেন্ট পেয়েছিলেন, তাতে উড্ডয়নের আগে উল্লেখযোগ্য কোনো আবহাওয়াজনিত সতর্কবার্তা ছিল না। তবে উড্ডয়নের পর ক্রুরা তাদের ইলেকট্রনিক ফ্লাইট ব্যাগে থাকা লাইভ আবহাওয়া অ্যাপে দেখতে পান, গ্রিনল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে "সম্ভাব্য তীব্র টার্বুলেন্স" তৈরি হচ্ছে।
ওই এলাকার কাছাকাছি পৌঁছানোর আগে বিমানটির ক্যাপ্টেন সিটবেল্ট সাইন চালু করেন এবং কেবিন ক্রুদের যন্ত্রপাতি নিরাপদে সংরক্ষণ করে নিজ নিজ আসনে বসতে নির্দেশ দেন। সিটবেল্ট সাইন চালু হওয়ার প্রায় ২০ মিনিট পর, হঠাৎ করে ১০ থেকে ১৫ সেকেন্ড স্থায়ী একটি তীব্র টার্বুলেন্সের ঘটনা ঘটে।
এই সময় এক নারী কেবিন ক্রু নিজের সিট নামিয়ে বেল্ট বাঁধার চেষ্টা করছিলেন। ঠিক তখনই বিমানটি হঠাৎ ঝাঁকুনি দিলে তিনি আসন থেকে উঠে গিয়ে পড়ে যান এবং তার গোড়ালি ভেঙে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, বিমানের ওপরের ডেকে থাকা এক যাত্রী টয়লেট ব্যবহারের জন্য নিজের আসন ছেড়ে যান। তিনি জানান, সিটবেল্ট সাইন চালু থাকার সময় তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন, ফলে সে বিষয়টি লক্ষ্য করেননি এবং কোনো ঘোষণাও শুনতে পাননি।
পরে আসনে ফেরার পথে বিমানটি হঠাৎ ওপরের দিকে ও পাশের দিকে ঝাঁকুনি দেয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিমানের মেঝের আকস্মিক নড়াচড়ার কারণে তার গোড়ালিও ভেঙে যায়। এই দুই আঘাতের কিছুক্ষণ পর তৃতীয় এক যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং জ্ঞান হারান।
পরে নিজেদের চিকিৎসক বলে পরিচয় দেয়া বিমানের দুই যাত্রী স্প্লিন্ট ব্যবহার করে আহতদের গোড়ালি স্থির করেন এবং ব্যথানাশক ওষুধ দেন। একই সঙ্গে ক্রুরা বিমান চলাচল সংক্রান্ত চিকিৎসা পরামর্শ সেবা 'মেডলিংক'-এর সঙ্গে যোগাযোগ করে নির্দেশনা নেন।
ঘটনার পর ক্যাপ্টেন কানাডার গ্যান্ডার বিমানবন্দর অথবা আইসল্যান্ডের কেফলাভিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণের কথা ভেবেছিলেন। তবে গ্যান্ডারের আবহাওয়া অবতরণের অনুপযোগী ছিল এবং কেফলাভিকের রানওয়ে বরফে আচ্ছাদিত থাকায় সেখানে নামাও সম্ভব হয়নি।
মেডলিংক, চিকিৎসক ও কেবিন ক্রুদের সঙ্গে আলোচনা শেষে ক্যাপ্টেন হিথ্রো বিমানবন্দরেই ফ্লাইট চালিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। অবতরণের আগে তিনি একটি মেডিকেল "প্যান" সংকেত ঘোষণা করেন, যাতে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল সরাসরি রুট নিশ্চিত করে এবং বিমান অবতরণের সঙ্গে সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখে।
অবতরণের পর আহত তিন যাত্রীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। দ্য ইন্ডিপেনডেন্টকে দেয়া এক বিবৃতিতে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ জানায়, 'নিরাপত্তা সবসময় আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, এবং আমাদের অত্যন্ত দক্ষ পাইলট ও কেবিন ক্রুরা এ ধরনের বিরল পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রশিক্ষিত।'
ব্রিটিশ বিমানের দুর্ঘটনার কবলে পড়ার এই ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালের ৬ ডিসেম্বর। বিষয়টি নিয়ে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) একটি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যের এয়ার অ্যাকসিডেন্টস ইনভেস্টিগেশন ব্রাঞ্চ (এএআইবি)। এতে ফ্লাইটের ওপর টার্বুলেন্সের প্রভাবের বিস্তারিত বর্ণনা দেয়া হয়।
এএআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়, ফ্লাইট শুরুর আগে ক্রুরা যে ব্রিফিং ডকুমেন্ট পেয়েছিলেন, তাতে উড্ডয়নের আগে উল্লেখযোগ্য কোনো আবহাওয়াজনিত সতর্কবার্তা ছিল না। তবে উড্ডয়নের পর ক্রুরা তাদের ইলেকট্রনিক ফ্লাইট ব্যাগে থাকা লাইভ আবহাওয়া অ্যাপে দেখতে পান, গ্রিনল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে "সম্ভাব্য তীব্র টার্বুলেন্স" তৈরি হচ্ছে।
ওই এলাকার কাছাকাছি পৌঁছানোর আগে বিমানটির ক্যাপ্টেন সিটবেল্ট সাইন চালু করেন এবং কেবিন ক্রুদের যন্ত্রপাতি নিরাপদে সংরক্ষণ করে নিজ নিজ আসনে বসতে নির্দেশ দেন। সিটবেল্ট সাইন চালু হওয়ার প্রায় ২০ মিনিট পর, হঠাৎ করে ১০ থেকে ১৫ সেকেন্ড স্থায়ী একটি তীব্র টার্বুলেন্সের ঘটনা ঘটে।
এই সময় এক নারী কেবিন ক্রু নিজের সিট নামিয়ে বেল্ট বাঁধার চেষ্টা করছিলেন। ঠিক তখনই বিমানটি হঠাৎ ঝাঁকুনি দিলে তিনি আসন থেকে উঠে গিয়ে পড়ে যান এবং তার গোড়ালি ভেঙে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, বিমানের ওপরের ডেকে থাকা এক যাত্রী টয়লেট ব্যবহারের জন্য নিজের আসন ছেড়ে যান। তিনি জানান, সিটবেল্ট সাইন চালু থাকার সময় তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন, ফলে সে বিষয়টি লক্ষ্য করেননি এবং কোনো ঘোষণাও শুনতে পাননি।
পরে আসনে ফেরার পথে বিমানটি হঠাৎ ওপরের দিকে ও পাশের দিকে ঝাঁকুনি দেয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিমানের মেঝের আকস্মিক নড়াচড়ার কারণে তার গোড়ালিও ভেঙে যায়। এই দুই আঘাতের কিছুক্ষণ পর তৃতীয় এক যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং জ্ঞান হারান।
পরে নিজেদের চিকিৎসক বলে পরিচয় দেয়া বিমানের দুই যাত্রী স্প্লিন্ট ব্যবহার করে আহতদের গোড়ালি স্থির করেন এবং ব্যথানাশক ওষুধ দেন। একই সঙ্গে ক্রুরা বিমান চলাচল সংক্রান্ত চিকিৎসা পরামর্শ সেবা 'মেডলিংক'-এর সঙ্গে যোগাযোগ করে নির্দেশনা নেন।
ঘটনার পর ক্যাপ্টেন কানাডার গ্যান্ডার বিমানবন্দর অথবা আইসল্যান্ডের কেফলাভিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণের কথা ভেবেছিলেন। তবে গ্যান্ডারের আবহাওয়া অবতরণের অনুপযোগী ছিল এবং কেফলাভিকের রানওয়ে বরফে আচ্ছাদিত থাকায় সেখানে নামাও সম্ভব হয়নি।
মেডলিংক, চিকিৎসক ও কেবিন ক্রুদের সঙ্গে আলোচনা শেষে ক্যাপ্টেন হিথ্রো বিমানবন্দরেই ফ্লাইট চালিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। অবতরণের আগে তিনি একটি মেডিকেল "প্যান" সংকেত ঘোষণা করেন, যাতে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল সরাসরি রুট নিশ্চিত করে এবং বিমান অবতরণের সঙ্গে সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখে।
অবতরণের পর আহত তিন যাত্রীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। দ্য ইন্ডিপেনডেন্টকে দেয়া এক বিবৃতিতে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ জানায়, 'নিরাপত্তা সবসময় আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, এবং আমাদের অত্যন্ত দক্ষ পাইলট ও কেবিন ক্রুরা এ ধরনের বিরল পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রশিক্ষিত।'
Comments
Post a Comment